বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে পার্বত্য চট্টগ্রামে শতভাগ মানবাধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মন্ত্রীর মতে, মানবাধিকার একটি আপেক্ষিক বিষয় এবং পাহাড়ে এটি প্রয়োগ করলে দেশের নিরাপত্তার 'অ্যালার্জি' হতে পারে।
পার্বত্য অঞ্চলে মানবাধিকার নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন দেখুন, আমাদের প্রথম ও মহান সুপ্রিম লিডার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সাহেবই প্রথম পাহাড়িদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার এই মহৎ মিশন শুরু করেছিলেন। তিনি দূরদর্শী ছিলেন বলেই জানতেন, পাহাড়ে বেশি অধিকার দিলে সেখানে মানুষ শান্তিতে ঘুমাবে, যা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। আমরা কেবল সেই ঐতিহ্য লালন করছি। ঐতিহ্য ধরে রাখা তো আর অপরাধ নয়! তিনি আরও যোগ করেন যে, মানবাধিকার আসলে একটি চর্বিযুক্ত খাবারের মতো। মন্ত্রী বলেন, "বেশি মানবাধিকার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এটা হজম করা কঠিন। শুধু স্বাস্থ্য নয়, বেশি মানবাধিকার দিলে অর্থনীতি ধীর হয়ে যায় এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ব্যায়ামে অলসতা চলে আসে। তাই আমরা তাদের স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করেই মানবাধিকারের ডোজ কমিয়ে দিয়েছি।"
মন্ত্রীর এই বৈপ্লবিক মন্তব্যের পর প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়েছিল এনসিপি (NCP) নেতা ও বর্তমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মুখ নাহিদ ইসলামের কাছে। তিনি মন্ত্রীর বক্তব্যে শতভাগ সমর্থন জানিয়ে এক ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা দাঁড় করান। নাহিদ বলেন আমাদের জুলাই আন্দোলন ছিল মূলত বিশুদ্ধ বাঙালি মুসলিমদের জন্য। এই আন্দোলনের বেনিফিশিয়ারি বা সুবিধাভোগী তালিকায় অন্য কোনো জাতিগত বা ধর্মীয় গোষ্ঠীর নাম অন্তর্ভুক্ত করার মতো জায়গা ফাইলে ছিল না। আমরা তো শুরুতেই বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশের কথা বলেছিলাম, তার মানে এই নয় যে সবাই সমান সুবিধা পাবে। সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে আমরা একটু 'সিলেক্টিভ' বা বাছাইপ্রক্রিয়া অনুসরণ করছি।
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসীরা যদি মানবাধিকার চায়, তবে তাদের আগে প্রমাণ করতে হবে যে তারা জুলাই বিপ্লবের সময় কোন ক্যাটাগরিতে ছিল। নাহলে মন্ত্রীর প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী মানবাধিকার ছাড়াই তাদের সুস্থ থাকতে হবে।
মন্ত্রীর এমন ‘স্বাস্থ্য সচেতন’ মন্তব্যের পর সাধারণ জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে নিজেদের জন্য নির্ধারিত মানবাধিকারের কোটা কমিয়ে দেওয়ার আবেদন করছেন যাতে অতিরিক্ত অধিকারে তাদের ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ না হয়। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ এখন ‘মানবাধিকারমুক্ত’ জীবন যাপনের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।