জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে যে কাউকে তুলে নিয়ে যাওয়া বা আটকে রাখাকে এখন থেকে আর ‘গুম’ বলা যাবে না—এমনই এক বৈপ্লবিক সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। কমিটির মতে, রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থে কেউ যদি কয়েক বছর আয়নাঘর বা বিদেশের পাহাড়ে কাটিয়ে আসে, তবে সেটাকে ‘নিখোঁজ’ না বলে ‘রাষ্ট্রীয় ছুটি’ হিসেবে গণ্য করাই শ্রেয়।
সবচেয়ে আশাবাদী বিষয় হলো, এই সুপারিশকারী কমিটিতে সগৌরবে উপস্থিত ছিলেন খোদ গুম থেকে ফেরত আসা সালাহউদ্দিন সাহেব। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একে ‘চোরের মায়ের বড় গলা’র আধুনিক সংস্করণ হিসেবে দেখছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্মৃতিচারণ: "গুম হওয়া মানেই রিফ্রেশমেন্ট"
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (যিনি নিজেও একসময় গুমের শিকার হয়েছিলেন) মুচকি হেসে জানান, তার নিখোঁজ থাকার দিনগুলো ছিল মূলত একটি দীর্ঘমেয়াদী রিসোর্ট প্যাকেজের মতো। তিনি বলেন: "আসলে গুম নিয়ে মানুষের মধ্যে অনেক ভুল ধারণা আছে। আমি যখন গুম হয়েছিলাম, তখন গোয়েন্দা সংস্থার ভাইদের আতিথেয়তায় আমি মুগ্ধ হয়েছি। ওনারা খুবই ভালো মানুষ, নিয়মিত চেকআপ করাতেন এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাকে নির্জনে সময় কাটানোর সুযোগ দিয়েছিলেন। আমি তো শুনেছি যারা গুম করেন, তারা আসলে জনগণের আসল বন্ধু।" তিনি আরও যোগ করেন, যারা বর্তমানে নিখোঁজ আছেন, তারা আসলে দেশের নিরাপত্তার কথা ভেবে স্বেচ্ছায় নির্জনে ধ্যান করছেন।
তবে মন্ত্রীর এই গোলাপী ছবির সঙ্গে একমত হতে পারছেন না দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকা আরেক ভুক্তভোগী। নিজের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, তার অভিজ্ঞতা মন্ত্রীর মতো অতটা ‘লাক্সারিয়াস’ ছিল না।
তবে রাষ্ট্রের বর্তমান নীতি দেখে তিনি হতাশ না হয়ে বরং ব্যবসার সুযোগ খুঁজছেন। তিনি এখন একটি ‘গুম প্রস্তুতি কোচিং সেন্টার’ খোলার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি বলেন: "যেহেতু গুম এখন রাষ্ট্রীয়ভাবে জায়েজ হতে যাচ্ছে, তাই সামনে এর চাহিদা বাড়বে। আমি মানুষকে শেখাবো কীভাবে চোখ বাঁধা অবস্থায় ভাত খেতে হয়, কীভাবে গুম হওয়ার সময় পকেটে টুথব্রাশ রাখতে হয় এবং দীর্ঘ কয়েক বছর সূর্যের আলো না দেখেও ভিটামিন-ডি ধরে রাখা যায়। আশা করছি, এই কোচিং সেন্টার চালিয়ে আমি কোটিপতি হয়ে যাবো। কারণ দেশে যে হারে গুমের বৈধতা আসছে, তাতে ছাত্রছাত্রীর অভাব হবে না।"
সাধারণ মানুষ অবশ্য এই সিদ্ধান্তে বেশ রোমাঞ্চিত। অনেকেই ভাবছেন, বাসা ভাড়ার ঝামেলা এড়াতে জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে কয়েক বছরের জন্য সরকারি কোনো ‘সেফ হাউসে’ থিতু হওয়া যায় কি না। তবে সচেতন মহলের প্রশ্ন একটাই—পরবর্তী জাতীয় বাজেটে ‘গুম ভাতা’ অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না?