বিদেশে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ লাখ টাকা করে ঋণ দিতে যাচ্ছে সরকার। তবে এই টাকা হাতে পাবেন না তারা, বরং টিউশন ফি ও অন্য প্রয়োজনীয় পেমেন্ট বাবদ সরাসরি প্রতিষ্ঠানে জমা দেওয়া হবে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।
নীল দর্পণের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই উদ্যোগ কার্যত মেধা পাচারকে উৎসাহিত করার নামান্তর। প্রতিবছর দেশের সেরা শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার নামে পাড়ি জমাচ্ছেন উন্নত দেশে, এবং ফিরে আসার হার নিতান্তই নগণ্য। সরকার সেই প্রক্রিয়ায় আর্থিক ‘সুবিধা’ দিতে উদ্যোগী হলো।
অন্যদিকে দেশীয় শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য, উচ্চশিক্ষায় গবেষণার সুযোগ সীমিত এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামো দুরবস্থা নিয়েও বারবার সংকেত দিয়েছেন শিক্ষাবিদরা। সরকারের উচিত ছিল সেসব জায়গায় বিনিয়োগ করা, যাতে মেধাবীদের বিদেশযাত্রার প্রয়োজনই না হয়।
নীল দর্পণের প্রতিবেদক প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরকে প্রশ্ন করেন, “দেশের টাকায় মেধা পাচার করতে উৎসাহ দেওয়া নীতি কেন? কেন দেশীয় শিক্ষায় বিনিয়োগ বা শিক্ষকের বেতন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না?”
জবাবে প্রতিমন্ত্রী প্রথমে কিছুটা থতমত খেয়ে বলেন, “দেখেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি করতে গেলে সময় লাগে। আর সময় নিয়ে মানুষের ধৈর্য থাকে না, তারা বুঝেও না। অনেক জটিলতা আছে।”
তবে তিনি দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়ে বলেন, “সহজ সমাধান হচ্ছে এই ঋণ দেওয়া। এতে শিক্ষার্থীরা সুবিধা পাবে, দেশের ভাবমূর্তি বাড়বে। আর মেধা পাচার? সেটা তো তারা যাচ্ছেই। অন্তত সরকারি টাকায় কিছু সুবিধা তো দেশের ছাত্ররা পাচ্ছে। বাকিটা পরে দেখা যাবে।”
প্রতিমন্ত্রীর এমন ‘ইজি পিক’ নীতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মঈনুল ইসলাম নীল দর্পণকে বলেন, “এটা স্বল্পদৃষ্টিসম্পন্ন নীতি। সরকার সংকট এড়াতে টাকা ছুঁড়ছে, কিন্তু সমাধান করছে না। দেশের জন্য এটা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হবে।”
সরকার অবশ্য এ বিষয়ে আর কোনো ব্যাখ্যা দিতে রাজি হয়নি। নীল দর্পণের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী হেসে বলেন, “আপনাদের মতো ব্যঙ্গাত্মক সংবাদমাধ্যম তো সব উল্টো দেখে। আমরা দেশের স্বার্থেই কাজ করছি।”
প্রসঙ্গত, গত পাঁচ বছরে বিদেশপলাতন শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, অথচ ফিরে আসা শিক্ষার্থীদের হার ১৫ শতাংশের নিচে।