রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে তিন দিন অফলাইন ও তিন দিন অনলাইনে ক্লাস চালুর ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা যখন এই সিদ্ধান্তে দিশেহারা, তখন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই প্রকল্পকে তার ‘শিক্ষাকে অফলাইনে পাঠানো’র মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

সাপ্তাহিক এই রোটেশনাল ক্লাস পদ্ধতি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি নীল দর্পণকে বলেন "দেখুন,খাদ্য বস্ত্র বাসস্থান এর পর শিক্ষা। কিন্তু শিক্ষার স্থান আরো পরে। শিক্ষার আগে সামরিক বাহিনী, আমাদের ব্যবসায়ী বন্ধুগণ, আরো অনেক বিষয় রয়েছে। এই সবের পর আসে শিক্ষা। আমাদের সরকারের কাছে শিক্ষা হলো সবচেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা চাই মানুষ একটু কম শিক্ষিত হোক, যাতে তারা বেশি প্রশ্ন না করে। সপ্তাহে তিন দিন অনলাইনে ক্লাস মানে হলো তিন দিন ছাত্রীদের ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়া—সেখানে তারা রিলস দেখুক বা গেম খেলুক, পড়াশোনা না করলেই আমরা খুশি। অফলাইন মানে তো সশরীর ক্লাসে যাওয়া, কিন্তু আমার টার্গেট হলো শিক্ষাব্যবস্থাকেই পুরোপুরি 'অফলাইন' বা অকেজো করে দেওয়া।"

মন্ত্রীর এমন বৈপ্লবিক সিদ্ধান্তের পেছনে তার পিএইচডি ডিগ্রির কোনো শিক্ষা কাজ করেছে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বেশ রুষ্ট হন। তিনি চশমা ঠিক করতে করতে বলেন "আমার পিএইচডি সম্পূর্ণ আলাদা একটা আলোচনা। সেটা পড়াশোনা করে নিয়েছি নাকি না করে—সেটা বড় কথা নয়। খবরদার! কোনো আলোচনায় আমার পিএইচডি টেনে আনবেন না। পিএইচডি দিয়ে কি আর দেশ চালানো হয়? দেশ চলে মেধা দিয়ে, আর আমার মেধা বলছে ছাত্রীদের ক্লাসের চেয়ে স্ক্রিনের সামনে রাখাই নিরাপদ।"

ভিকারুননিসার বেইলি রোড শাখার কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে কথা বললে তারা অত্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করে। এক শিক্ষার্থী কান্নাভেজা কণ্ঠে জানায় "আমরা এই সিদ্ধান্ত মানি না। অনলাইনে ক্লাস করা মানে হলো ক্যামেরা অফ করে ঘুমিয়ে থাকা। কিন্তু অফলাইনে গেলে তো বান্ধবীদের সাথে আড্ডা দেওয়া যেত, টিফিন শেয়ার করা যেত, এমনকি ক্লাস বাঙ্ক করে একটু ফুচকা খাওয়া যেত। এখন তো সপ্তাহে তিন দিন বাসায় বন্দী থাকতে হবে। আমাদের সোশ্যাল লাইফ তো পুরো 'অফলাইন' হয়ে গেল!"

এদিকে অভিভাবকরা ভাবছেন, সপ্তাহে তিন দিন ল্যাপটপ আর স্মার্টফোন হাতে দিয়ে মেয়েদের ‘অনলাইন ক্লাসে’ বসিয়ে রাখা মানে হলো ডিজিটাল ডিভাইসের প্রতি তাদের আসক্তি বাড়িয়ে দেওয়া। তবে শিক্ষামন্ত্রীর সাফ কথা—ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে হলে ডিজিটাল আসক্তি তো লাগবেই!