দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটিতে জায়গা পেতে এখন নূন্যতম স্নাতক পাস হতে হবে। শিক্ষামন্ত্রী মিলন আজ বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ‘এবার থেকে যাঁর হাতে স্নাতক পাসের সার্টিফিকেট নেই, তিনি কোনো ম্যানেজিং কমিটির সদস্যও থাকতে পারবেন না।’

সংস্কৃতে আছে ‘শিক্ষিত মানুষ মাত্রই স্বশিক্ষিত মানুষ।’ গ্রামবাংলার অগণিত মানুষ শিক্ষার মূল্য বুজে নিজ টাকা পরিশ্রম দিয়ে স্কুল কলেজ প্রতিষ্ঠা করে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে গ্রামগঞ্জের বহু স্কুল-কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও দানবীর সদস্যরা চরম বিপাকে পড়েছেন। তাঁদের অনেকেই হয়তো জমি দিয়েছেন, টাকা দিয়েছেন, নিজের হাতে ইট গেঁথে গড়ে তুলেছেন বিদ্যাপীঠ। কিন্তু তাঁদের হাতে নেই স্নাতকের ওই মূল্যবান কাগজ। একজন স্থানীয় লোকের ভাষায়, ‘আমি যদি দশ লাখ টাকা দিই, স্কুল বা কলেজ প্রতিষ্ঠা করি, তবে আমি তার ম্যানেজিং কমিটিতে স্থান পাবো না? এইটা কোন বিচার? কিন্তু মন্ত্রী মিলনের নতুন আইনে তাঁরা সবাই ‘অশিক্ষিত’ বলে বিবেচিত হবেন।

নীল দর্পণের প্রতিবেদক মন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন, “মানুষ যদি স্কুলের জন্য জমি দান করেন, ছাত্রছাত্রীদের জন্য বই কিনে দেন, তবুও তিনি ম্যানেজিং কমিটিতে থাকতে পারবেন না নাকি?” জবাবে মন্ত্রী মিলন কিছুটা চটে যান। তিনি বলেন, “আইন আইন। সার্টিফিকেট না থাকলে কিভাবে বুঝব উনি শিক্ষিত? নীল দর্পণের প্রতিবেদক মন্ত্রীকে আরো প্রশ্ন করেন মন্ত্রী কি সার্টিফিকেটধারী লোক চান নাকি স্বশিক্ষিত লোক চান। জবাবে মন্ত্রী বলেন স্বশিক্ষিত লোকজন আসলে শিক্ষিত নন, তারা শিক্ষিত হবার ভ্যান ধরেন। এদের থেকে সাবধান থাকতে বলেন মন্ত্রী।

এই বিষয়ে বিশিষ্ট স্বশিক্ষিত আরজ আলীর মতামত চাইলে তিনি বলেন আমাদের শিক্ষা মন্ত্রীর শিক্ষার উপর পিএইচডি আছে। এখন তার কাজকারবার দেখে আপনারাই বলেন কে আসলে শিক্ষিত।